জ্বালানি সংকটের প্রভাব

আগস্টে পুঁজিবাজারের সূচক কমেছে ৫ শতাংশ

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইএক্স সূচক গত আগস্টে ২৯৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি দুই মাসের মধ্যে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।

গ্যাস ও বিদ্যুতের অব্যাহত সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় গত আগস্টে দেশের পুঁজিবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স এ সময়ে ২৯৭ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমেছে। টানা চার মাস উত্থানের পর গত মাসে পুঁজিবাজারের সূচকে নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। সূচকের পাশাপাশি এ সময়ে ডিএসইর লেনদেন কমেছে ৩০ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইএক্স সূচক গত আগস্টে ২৯৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এটি দুই মাসের মধ্যে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ এ সময়ে ১০৪ পয়েন্ট বা প্রায় ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৭১ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ১২৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে।

ডিএসইতে এ বছরের জুলাইয়ের দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। সর্বশেষ গত আগস্টে দৈনিক গড় লেনদেন ৩০ শতাংশ কমে ৮৭৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত সাড়ে ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। আগস্টে ডিএসইর বাজার মূলধন ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায়। এ সময়ে ৫০টি সিকিউরিটিজের দর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৩২৯টির আর ৯টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আগস্টের শুরুতেই বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি নমনীয় করার অংশ হিসেবে নীতি সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমায়। একই সঙ্গে মাসের মাঝামাঝিতে মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এসব ইতিবাচক পদক্ষেপকে ছাপিয়ে জ্বালানি সংকটের কারণে পুঁজিবাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি এবং সার্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে শেয়ার বিক্রি বাড়িয়ে দেন। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের নেয়া উদ্যোগ এবং জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর আসন্ন বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন ও লভ্যাংশ ঘোষণার ওপর সামনের দিনগুলোতে পুঁজিবাজারের সূচকে গতিপথ নির্ভর করবে বলে মনে করছেন তারা।

খাতভিত্তিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগস্টে ডিএসইর প্রায় সব খাতের শেয়ারেই দরপতন ঘটেছে। এ সময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ পতন ঘটেছে। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডে ৯ দশমিক ৫৬ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, সিরামিক খাতে ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ দরপতন হয়েছে। সার্বিক দরপতনের মধ্যেও সেবা ও আবাসন খাত একমাত্র ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।

পুঁজিবাজারের মোট লেনদেনের ২৩ শতাংশ দখলে নিয়ে গত আগস্টে শীর্ষে ছিল বস্ত্র খাত। এরপর যথাক্রমে বীমা খাত ১৮ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল ১০ শতাংশ লেনদেন। পতনের বাজারেও স্বল্পমেয়াদি লেনদেনের কারণে কিছু ‘জেড’ ক্যাটাগরি ও মাঝারি মূলধনি শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এর মধ্যে তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের ৫৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, জিবিবি পাওয়ারের ৫০ শতাংশ, সায়হাম টেক্সটাইলের ৪৩ শতাংশ, নিটল ইন্স্যুরেন্সের ২৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ দর বেড়েছে।

গত আগস্টে পুঁজিবাজারের দরপতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, বিএটিবিসি, লাফার্জহোলসিম, সিটি ব্যাংক ও ডমিনেজ স্টিলের শেয়ার। এ সময়ে একক কোম্পানি হিসেবে প্রতিদিন গড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ কোটি টাকা, বেক্সিমকো লিমিটেডের ২১ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং সায়হাম টেক্সটাইলের ১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা।

আরও